এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করে না
এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করে না-
কেমন আছো, বাবু? মুখখানি এমন বিবর্ণ কেন?
দুপুরবেলা অন্ন মুখে তুলেছ তো?
কাল রাতে কি ঘুম হয়নি?
চোখ দুটো এত ফোলা কেন?
আয়, মাথাটা টিপে দিই, ঘুম নেমে আসুক মনে।
এখন আর কেউ শুধায় না-
কবে ফিরবি আপন ঘরে? উৎসব এলে উঠোন জুড়ে
নীরব প্রতীক্ষা সঞ্চিত রয়
কত কথাই বলতে চেয়েও
অধরের কোণে থেমে যেত—
"পূজোর আগে যদি পারো, কিছু টাকা পাঠিয়ো, বাবা।"
আজকাল আর শোনা যায় না-
“ধীরে যাস রে, সাবধানে, বৃষ্টির জলে ভিজে না আর”,
জ্বর যে আসে অকস্মাৎ
পৌঁছেই একটা খবর দিও,
ফিরতে যেন দেরি না হয়
সন্ধ্যা নামলেই জানালায়, উদ্বেগ এসে বসত নিভৃতে।
সেই সব কথা কোথায় গেল?
হারায় যেমন দুপুররোদ,
গোধূলির রাঙা আভা, ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু।
হারায় যেমন স্বপ্ন ভেঙে
ভোরের আগে শেষ নিশ্বাস,
তেমনি মায়ের স্নেহডাকা, মিশে গেছে নীরব অন্তরালে
এখন পথে হাঁটি একাই,
ভিড়ের মাঝেও একলা আমি।
কেউ আর দেখে না আজকাল,
ধীরে হাঁটি, নাকি থেমে,
তবু হঠাৎ মনে হয় যেন
অদৃশ্য দুটি স্নেহ-করতল, কেশে পরশ বুলিয়ে বলে
"এত ব্যথা রাখিস না মনে।"
এখন আমি নিজের কাছে, নিজকেই শুধু প্রশ্ন করি
খেয়েছিস তো? ক্লান্ত নাকি? নয়ন কেন এত শ্রান্ত?
নিজের বুকে নিজেই রাখি
সান্ত্বনার স্নিগ্ধ পরশ
কারণ এখন
আমার খোঁজ রাখার মানুষ, আমিই শুধু আজ।
তবু গভীর রাতে,ঘুম না এলে আজও মনে হয়—
দুয়ার বুঝি খুলে যাবে,বলবে কেউ চেনা স্বরে—
"এখনো জেগে আছিস, বাবু?"
একদিন আমিও চলে যাব, অন্য কোনো আলোর দেশে
হয়তো তখন বুঝবে সবাই
খোঁজ নেওয়াই স্নেহের ভাষা,
হৃদয়তলে জ্বলুক শুধু, মায়ার নিবিড় প্রদীপখানি
"কেমন আছিস?"এই প্রশ্নটাই
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বাণী।