শিক্ষা যখন পণ্য: আমরা কি পথ হারাচ্ছি?


ব্রিটিশ লেখক, বক্তা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা-বিষয়ক উপদেষ্টা স্যার কেন রবিনসন প্রায়ই ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেথ ভ্যালি’র কথা বলতেন। বহু বছর ধরে এই উপত্যকাকে মনে হতো শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও প্রাণহীন এক ভূদৃশ্য। অথচ একবার প্রবল বৃষ্টিপাত ও অনুকূল পরিবেশের পর হঠাৎই সেই মরুভূমি প্রাণের রঙে ভরে উঠেছিল। মরুর বুক জুড়ে ফুটেছিল অসংখ্য ফুল। সেখানে নতুন করে জীবন সৃষ্টি হয়নি। জীবন আগে থেকেই মাটির নিচে সুপ্ত ছিল। অপেক্ষা করছিল শুধু বিকশিত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশের। শিক্ষার জন্য এই উপমার তাৎপর্য গভীর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিক্ষাকে সভ্যতার ভিত্তি, ব্যক্তির আত্মবিকাশ এবং জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল কিছু তথ্য মুখস্থ করা কিংবা সনদ ও ডিগ্রি অর্জন নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে বিকশিত করা। তা হলেই একজন শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন নৈতিক নাগরিক, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির আদর্শ নেতা এবং নতুন চিন্তা-চেতনায়  সৃজনশীল মানুষ হয়ে উঠতে পারে। সমাজ ও অন্য মানুষের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সত্যিকারের শিক্ষার প্রদীপ জ্বালানো একটি রাষ্ট্রের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। নেলসন ম্যান্ডেলা যথার্থই বলেছিলেন, “শিক্ষা হলো পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।” এই উক্তিটি থেকেই অনুধাবন করা যায় শিক্ষার প্রভাব কতোটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকালে আমাদের অনেক কিছুই ভাবতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে।  স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা এগিয়েছে তা নতুন করে মূল্যায়নের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর কি হতে পারে? একই সঙ্গে আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্নও করা প্রয়োজন: “শিক্ষার যে লক্ষ্যের দিকে আমরা এগোতে চেয়েছিলাম, আমরা কি তার কাছাকাছি পৌঁছেছি, নাকি পথ হারিয়েছি?”

১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়েছিল শিক্ষাকে। সংবিধানেও শিক্ষাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন শিক্ষাকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। স্কুল ও কলেজের দায়িত্ব ছিল এমন দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা, যারা জাতীয় পুনর্গঠন ও সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। স্বাধীনতার প্রথম দিকের নানা সংকট ও সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও প্রথম দুই দশকে ধারাবাহিক সরকারগুলো শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটেছিল, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে দেশের সাক্ষরতার হার বেড়েছিল। শিক্ষা তখন প্রধানত কোনো পণ্য হিসেবে নয়, বরং সমগ্র জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি জনসেবা হিসেবে বিবেচিত হতো। দক্ষ নাগরিক হিসাবে তৈরি করার লক্ষ্যে স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থীকে পাঠানো হয়েছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নে। স্বপ্ন ছিলো একটাই। দেশের উন্নয়নে এরাই হাত ধরবে। আজ এসব দক্ষ নাগরিকরাই দেশের নানা ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিশর প্রমাণ রেখে চলেছে। অথচ আজকের চিত্রটা কেন এমন হলো। এই প্রসঙ্গটা এখানে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

১৯৯০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও বিশ্বায়নের ধারায় প্রবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা হয়। শিল্পায়নের প্রসার, বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্প ও বেসরকারি খাতের দ্রুত বিকাশ সহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়তে থাকে।  এর প্রতিক্রিয়ায় বেসরকারি শিক্ষাখাতও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, কোচিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। জাতীয় অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার এই উদারীকরণের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার এমন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা আগে তাদের নাগালের বাইরে ছিল। প্রতিযোগিতা শিক্ষাদান পদ্ধতিতে নতুনত্ব এনেছে। দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি অনেক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হতে উৎসাহিত করেছে। একই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন ভর্তির হার এবং শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রশংসাও অর্জন করেছে। কিন্তু শিক্ষা যখন ক্রমশ বাজারের অংশ হয়ে ওঠে, তখন তার সুফলের পাশাপাশি কিছু জটিল সমস্যাও দেখা দেয়। বাংলাদেশে যেমন, বিশ্বের আরও অনেক দেশেও তেমনি প্রতিযোগিতা বেড়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের র‌্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বহু পরিবারের কাছে শিক্ষা এখন সন্তানের ভবিষ্যৎ চাকরি নিশ্চিত করার একটি বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। একসময় শিক্ষায় সাফল্য বলতে বোঝানো হতো একজন মানুষের বুদ্ধি বৃত্তিক সম্ভাবনার বিকাশ। এখন সাফল্যের সংজ্ঞা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পরীক্ষার ফলাফল, জিপিএ, নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ কিংবা বিদেশে পড়তে যাওয়ার সামর্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

শুধু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাই পরীক্ষা কেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়নি। বিশ্বজুড়েই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অনুসন্ধান অনেক ক্ষেত্রে সনদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। শিক্ষার ফলাফল পরিমাপের চাপ, বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং এবং শ্রমবাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমন ফলাফলের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করেছে, যা সহজে সংখ্যায় মাপা যায়। ফলে ডিগ্রিকে ক্রমশ অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কখনো কখনো জ্ঞান সন্ধানী মানুষ নয়, বরং একটি সেবা ক্রয়কারী ‘গ্রাহক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মতো প্রযুক্তি আমাদের পৃথিবীকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। এখন একটি ক্লিকেই জ্ঞান মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং নানাভাবে কাজে লাগানো যায়। ডিজিটাল শিক্ষণ ও শেখার উপকরণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে শেখে এবং জ্ঞান কীভাবে বিনিময় ও প্রয়োগ করে, দুটিই পাল্টে দিয়েছে। এই নতুন বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য কেবল তথ্য মুখস্থ করা আর যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতের কর্ম জগতের জন্য শিক্ষাকে এখন সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, দলগতভাবে কাজ করার সামর্থ্য, ডিজিটাল সাক্ষরতা, যুক্তি বোধ এবং নৈতিক বিচার বুদ্ধির মতো দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। কর্মীদের কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে, তারা জটিল কর্মক্ষেত্রের সমস্যা দ্রুত বিশ্লেষণ করবে। তার সমাধান করবে এবং কাজ করতে করতেই নতুন কিছু শিখে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করবে। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা দিয়ে এসব দক্ষতা তৈরি করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ এসব চ্যালেঞ্জের অনেকগুলোই চিহ্নিত করেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পাঠ্যক্রম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে। তবে পরিবর্তন শুধু পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষকদের আরও কার্যকর পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ দিতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে উন্নত শিক্ষা-উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ ও সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে হবে। মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে এমন ভাবে পরিবর্তন করতে হবে, যাতে স্মৃতি নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে বিষয়বস্তুর গভীর উপলব্ধিকে মূল্য দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গ্রাম ও শহর, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের ভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি থেকে সৃষ্ট শিক্ষা বৈষম্য কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে। শিক্ষার লক্ষ্য শুধু একজন মানুষকে চাকরির উপযোগী করে তোলা হতে পারে না। মানসম্পন্ন শিক্ষা এমন মানুষ তৈরি করবে, যারা নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, বহুত্ব বাদকে সম্মান করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে। পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল এবং নিজেদের কাজের মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করে। নৈতিকতা বিহীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এমন এক সমাজ তৈরি করতে পারে, যা বাহ্যিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও দুর্নীতি, সামাজিক ও কর্ম ক্ষেত্রের বৈষম্য এবং পারস্পরিক আস্থার সংকটে জর্জরিত হবে।

এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি দেশের বহু মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, শিক্ষার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তার মান নিশ্চিত করা। আজকের যুগে শিক্ষিত মানুষ জটিল প্রশ্নের উত্তর পেতে, যুক্তি তৈরি করতে এবং সেই যুক্তির পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে এআইয়ের সহায়তা নিতে পারে। ফলে শিক্ষাকে কেবল চাকরির বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। তাকে আরও বেশি করে মানুষের সেই গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হবে, যা প্রযুক্তি দিয়ে সহজে প্রতিস্থাপন করা যায় না। সহমর্মিতা, নৈতিকতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞা। উন্নত ও টেকসই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে এই গুণগুলো থাকা অপরিহার্য। বাংলাদেশ যখন তার অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব গঠন এবং সেই অগ্রগতিকে টেকসই করার পূর্বশর্ত হলো শিক্ষা। তাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য শুধু পরীক্ষার নম্বর, পাসের হার, স্নাতকের সংখ্যা কিংবা কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং দেখতে হবে, এই ব্যবস্থা কেমন চরিত্র, সক্ষমতা ও সততা সম্পন্ন মানুষ তৈরি করছে। শিক্ষার মানবিক উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেললে আমাদের দেশে ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যা হয়তো অনেক বাড়বে। কিন্তু সহমর্মী নেতা, দায়িত্বশীল নাগরিক এবং সৃজনশীল উদ্ভাবকের অভাব থেকেই যেতে পারে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাই শুধু আরও বেশি মানুষকে শিক্ষিত করার ওপর নির্ভর করবে না। নির্ভর করবে আমরা মানুষকে কীভাবে চিন্তা করতে হয়, কীভাবে মানুষের সেবা করতে হয় এবং কীভাবে একটি উন্নত জাতি গড়ে তুলতে হয়, তা শেখাতে পারছি কি না, তার ওপর।

‘ডেথ ভ্যালি’র ছবিটি বাংলাদেশের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে দেখার জন্যও এক শক্তিশালী রূপক। উপরে থেকে ডেথ ভ্যালিকে যতই অনুর্বর মনে হোক না কেন, মাটির নিচে থাকা বীজগুলো প্রাণহীন। এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। ঠিক তেমনি, কোনো শিশুর সম্ভাবনা দৃশ্যমানভাবে বিকশিত হয়নি বলে তার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, কল্পনাশক্তি কিংবা সৃজনশীলতা নেই, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ভুল। বাংলাদেশে প্রতিভাবান, উদ্যমী ও স্বপ্নবান তরুণ-তরুণীর অভাব নেই। যে জিনিসটির অভাব রয়েছে, তা হলো এমন উপযুক্ত পরিবেশ, যেখানে তাদের সেই সম্ভাবনাগুলো পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে।  সেই অর্থে আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়: আমরা কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি, কতগুলো ডিগ্রি দিয়েছি কিংবা কতজন শিক্ষার্থীকে স্নাতক করেছি। বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কেমন মানুষ তৈরি করছে? বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু তাদের হাতে লেখা হবে না, যারা বেশি জানে। বরং তাদের হাতেই রচিত হবে, যারা আরও বড় করে কল্পনা করতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে সাহসী, এবং সততা ও সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম। আমাদের মতো একটি দেশে সম্ভাবনার বীজ ইতিমধ্যেই জীবন্ত। সেই সম্ভাবনাকে নতুন করে সৃষ্টি করতে হবে না। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো: এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে সেই সম্ভাবনা প্রস্ফুটিত হতে পারে। তা হলেই রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির পথে পচলে গিয়ে পথ হারানোর ভয় থাকবে না।

Leave your review