
সারা বিশ্ব আজ অস্থিতিশীল। এক মহা বিপর্যয়ের দিকে এগুচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। পশ্চিমা বিশ্ব হাঁটছে যুদ্ধের পথে। জাতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করে যুদ্ধে ঢেলে যাচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। চারিদিকে রক্ত ঝরছে। তবু পশ্চিমারা থামছে না। তার এক মাত্র কারণ রাশিয়া। অর্থাৎ রাশিয়াকে যে করেই হোক হারাতে হবে। ইউক্রেনকে যুদ্ধে টিকে থাকতেই হবে। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে পশ্চিমাদের মান-ইজ্জত থাকবেনা, মোড়ল গিরিও ধোপে টিকবেনা। রাশিয়ার উত্থান অপমানজনক। আর তাইতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যখন বাস্তবতাকে অনুধাবন করে, সত্যকে বুঝতে পেরে, ভবিষ্যৎ বিপর্যয়কে আঁচ করতে পেরে রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে যুদ্ধের ইতি ঘটাতে চান শান্তিপূর্ণ ভাবে তখনই ইউরোপিয়ান নেতাদের টনক নড়ে। যুদ্ধকে প্রলম্বিত করার জন্য ইউরোপিয়ানরা জোটবদ্ধ হয়ে ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে বিঘ্ন ঘটাতে চায়। সত্যিই কথা বলতে কি, এই মুহূর্তে ইউরোপিয়ান দেশগুলিতে কোন দূরদর্শী প্রাজ্ঞ ও বিবেকবান নেতা নেই। বর্তমান নেতাদের ইতিহাস, দর্শন, সমরনীতি, রাষ্ট্রনীতি কিংবা সমাজনীতি সম্পর্কে সত্যিকারের কোন জ্ঞান নেই। তাই খুব শীঘ্রই ইউরোপিয়ান দেশগুলো সম্মুখীন হবে মহা বিপর্যয়ের যদি না অন্ধত্ব আর অজ্ঞতা থেকে বেড়িয়ে এসে যুদ্ধের ইতি টেনে রাশিয়ার সাথে সহাবস্থান শুরু করে।
প্রায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে ইউক্রেইন-রাশিয়ার সংকটের পর ডোনান্ড ট্রাম্পের দৃঢ় প্রাজ্ঞতার কারণে বিশ্ব রাজনীতিতে নেমে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব, শুধুমাত্র যুদ্ধের কৌশলগত দিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও পশ্চিমা দেশের প্রতারণার চিত্রও সঠিকভাবে তুলে ধরছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন সহ মিত্র দেশগুলি বিশেষ করে যুদ্ধবাজ যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স সহ ইউরোপিয়ান দেশগুলি রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা এই যুদ্ধে উসকানি দাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ন্যাটোর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বার বার। ন্যাটো-ভুক্ত দেশগুলিই ঢালাও ভাবে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার অবস্থান ছিলো নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য। রাশিয়া কোন মতেই চাইবে না তার পার্শ্ববর্তী দেশ ন্যাটো-ভুক্ত হয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তায় বিপর্যয়ের কারণ হয়। তবে রাশিয়া-ইউক্রেইনের সংকটময় পরিস্থিতিতে চীন ও ভারতের মতো শক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়িত না থাকলেও বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ গঠনে ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট এবং বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির মতো প্রভাব পড়েছে, যা সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের মধ্যকার সংঘাত নয়, এটি আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থার এক জটিল বাস্তবতা, যেখানে কূটনৈতিক চাল, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সামরিক শক্তির ভারসাম্য একত্রে কাজ করছে।
প্রশ্ন হলো এই সংকটের কারণ কি? পশ্চিমা মিডিয়া থেকে শুরু করে সমাজের সব স্তরের মানুষ মনে করে এই সংকটের এক মাত্র কারণ রাশিয়ার পুতিন। পুতিনকে হিটলারের সাথে তুলনা করতেও অনেকে ছাড়েননি। কিন্তু সত্যিটা হলো পশ্চিমা দেশ নায়কেরা আসলে ধুরন্ধর, মিথ্যাবাদী এবং যুদ্ধবাজ। খুব সহজে ওরা ভুলে গেলো বার্লিনের প্রাচীর পতনের পর পশ্চিমাদের এবং ন্যাটোর দেয়া একাধিকবার প্রতিশ্রুতির কথা যে তারা পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে না। জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোহলও গর্বাচেভকে বলেছিলেন যে ন্যাটোর সম্প্রসারণ হবে না। ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার গর্ভাচেভকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ন্যাটো "এক ইঞ্চি পূর্বেও যাবে না"—কিন্তু বাস্তবতা হলো একেবারেই অন্যরকম। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ন্যাটো ক্রমাগত পূর্ব ইউরোপে নিজেদের প্রভাব বাড়াতেই থাকে এবং একের পর এক পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে ন্যাটোর বলয়ে নিয়ে আসে। পুতিন ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই ব্যাপারে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে চতুর-বাজ পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার উদ্বেগকে উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে থাকে। এই পরিস্থিতির কারণেই রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করতে পারেনি এবং ইউক্রেনকে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা মূলত রাশিয়াকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়। ২০০৮ সালে বুখারেস্ট সামিটে ন্যাটো প্রকাশ্যে ঘোষণা করে যে ইউক্রেন ও জর্জিয়া ভবিষ্যতে ন্যাটোর সদস্য হতে পারে। এটি রাশিয়ার জন্য ছিলো একটি বড় হুমকি। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে তাদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখে আসছে। পুতিন একাধিকবার সতর্ক করেছেন যে ইউক্রেনকে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা তাদের জন্য "রেড লাইন"। তবুও পশ্চিমারা তাদের উসকানিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, যার ফলে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান সংঘটিত হয়। মূলত, পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতিই এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ। তারা একদিকে শান্তির কথা বলে, আর অন্যদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তার প্রশ্নে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলে।
তবে এখানে বলা প্রয়োজন যে যারা পশ্চিমা মিডিয়া দেখেন এবং সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা হলেও অবগত আছেন তারা পশ্চিমা মিডিয়ার আসল চেহারাটা ধরতে পারবেন। যুদ্ধের সত্যিকারের সংবাদকে ওলোট-পালোট করার মহা ওস্তাদ অসত্য প্রকাশকারী পশ্চিমা মিডিয়া। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই বেশিরভাগ পশ্চিমা মিডিয়া দাবি করে যে পুতিন একজন আগ্রাসী নেতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো একেবারে ওল্টোটা। পুতিন সঠিক কাজটাই করছেন। রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার কাজ যে কোন রাষ্ট্রীয় নেতার গুরু দায়িত্ব। ন্যাটোর ক্রমাগত পূর্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনকে সামরিক জোটের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা রাশিয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ ছিল। পুতিনের পক্ষে কোনো বিকল্প ছিল না। পশ্চিমারা তার প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল এবং একাধিকবার সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০১৪ সালে কিয়েভে পশ্চিমা-সমর্থিত সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাশিয়া তার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠে। পুতিন ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থানের নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন, যা পশ্চিমা নেতারা নিশ্চিত করেননি, বরং তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছে। অতএব, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া পুতিনের অন্য কোনো উপায় ছিল না। এটি শুধুমাত্র রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কৌশল নয়, বরং পশ্চিমা কূটনৈতিক প্রতারণারও প্রতিক্রিয়া।
বর্তমানে রাশিয়া সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করছে, যা প্রমাণ করে যে পশ্চিমাদের পরিকল্পনা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ রাশিয়ার ওপর প্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং এটি ইউরোপীয় অর্থনীতিকেই বিপর্যস্ত করেছে। এর ফলে স্পষ্ট হয় যে পুতিনের কৌশল দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে এবং পশ্চিমা বিশ্বকে তাদের কূটনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছেন। আর তাই তার প্রশাসন রাশিয়ার সাথে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে মনোযোগ দেন। ট্রাম্প বিশ্বাস করতেন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারলে, তা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্রিটিশ অর্থনীতি বর্তমানে এক সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। এর পিছনে একাধিক কারণ থাকলেও মূল কারণটি হলো অহংকার এবং ভুল নীতি। ব্রিটিশ সরকার পশ্চিমা মিত্রদের অনুসরণ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটেনে বসে যখন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের কথা শুনি, তখন বুঝতে পারি তারা কতো অন্ধ এবং মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। তাদের বক্তব্য সবই একপেশে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তাদের চোখে রাশিয়া একটি শত্রু দেশ। তারা সেই দেশকে একইভাবে দেখে যেমন তারা ইরাক, লিবিয়া বা কসোভোকে দেখেছিল। এই একপেশে মনোভাব সমাজের জন্য এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে। ব্রিটেনের সেই কলোনিয়াল মাইন্ডসেট এখনও স্পষ্ট। তারা মনে করে যে তারাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি এবং অন্যান্য দেশগুলো তাদের চোখে তুচ্ছ। পশ্চিমারা কখনোই রাশিয়ার প্রকৃত শক্তি বুঝতে পারেনি। তারা ভুলে যায় যে রাশিয়া পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী দেশ, যাদের ইতিহাস, দর্শন এবং সামরিক শক্তির গভীরতা পশ্চিমাদের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা বিশ্ব ইতিহাস ও সামাজিক গতি-প্রকৃতির প্রকৃত জ্ঞান থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন। তারা শুধু জানে গণতন্ত্রের বুলি আওরাতে। আর সেই তথাকথিত একপেশে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতেই নাকি যুদ্ধ করছে, যা আসলে একটি নিখুঁত সস্তা কূটনীতি এবং এক ধরনের পরিহাস। তাদের ধারণা, যুদ্ধ এবং সংঘাতের মধ্যে তারা একমাত্র "সঠিক" অবস্থানে রয়েছে। আমার বিশ্বাস এই ধরনের মনোভাব একদিন পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তাহলে মোদ্দা কথাটা কি? আসল কথাটা হলো রাশিয়া ও পুতিন সম্পর্কে পশ্চিমা প্রচার যেভাবে নেতিবাচক-ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তবতা তেমন নয়। পশ্চিমারা নিজস্ব স্বার্থের জন্য পুতিনকে খলনায়ক হিসেবে চিত্রিত করেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে বিশ্ব বাসীর সামনে তার নীতির সঠিকতা প্রমাণিত হচ্ছে। পুতিনের দূরদর্শিতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে রাশিয়া আজ শক্তিশালী এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ অর্থনীতির দুর্বলতা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সামগ্রিক ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, তাদের আধিপত্য যুগের সমাপ্তি শুরু হয়ে গেছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো যা মনে করেছিল যে তারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সেই বিশ্বাস আজ ভেঙে পড়েছে। পুতিন বর্তমানে যুদ্ধের ময়দানে কৌশলগত-ভাবে এগিয়ে রয়েছেন, এবং কূট-নৈতিকভাবে তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে তার অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছেন। তার নেতৃত্বে রাশিয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী অবস্থান অর্জন করেছে, যা পশ্চিমা শক্তিগুলোর নীতি এবং পরিকল্পনার জন্য এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থায় পুতিনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, এবং পশ্চিমারা তার পরিকল্পনার সামনে নত হতে বাধ্য হবে। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে, যেখানে গুণগত পরিবর্তন আর শক্তির বিশ্ব-ব্যবস্থায় স্পষ্ট হচ্ছে, পুতিন এবং রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক কৌশলে এমন এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক উল্লেখযোগ্য শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। পশ্চিমারা যতই তাদের পদ্ধতি, প্রচারণা এবং কৌশল পরিবর্তন করুক, একটি সত্য স্পষ্ট হচ্ছে তা হলো, রাশিয়া কোনো অবস্থাতেই বিশ্বে তার প্রভাব কমতে দেবে না। বরং ভবিষ্যতে তার কৌশল পশ্চিমা বিশ্বের জন্য এক নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করবে।