
হঠাৎ করেই রাশিয়া ইউক্রেইন সংকটে নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশ্বর ভূ-রাজনীতিতে এক চমকপ্রদ মেরুকরণ হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় রাজনীতিতে নেমে এসেছে এক নতুন সমীকরণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা, বাক-বিতণ্ডা চললেও, ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের আলোচনায় যেন উত্তেজনার কিছুটা অবসান ঘটেছে। অন্তত ২৬শে ফেব্রুয়ারির বিবিসির সকালের সংবাদ দেখে তেমনটাই মনে হলো। এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং যাওয়ার আগে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ২৭শে ফেব্রুয়ারি তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—শত অপমান, অবহেলা আর সংকটের মুখোমুখি হয়েও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে। লক্ষ্য একটাই—৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিরল খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা। এই চুক্তি কেবল একটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি ইউক্রেনের জন্য একমাত্র পথ। এত প্রতিকূলতার পরও পশ্চিমা সমর্থন ধরে রাখতে এবং যুদ্ধ পরবর্তী সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা চালিয়ে যেতে ইউক্রেনের আর কোনো বিকল্প নেই।
গত তিন বছর যাবৎ চলে আসা রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট কেবল দুটি দেশের সংঘাত নয়, বরং এই সংকট বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন। পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য যখন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন রাশিয়া দৃঢ়ভাবে তার অবস্থান বজায় রেখেছে। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত হওয়ায় এবং শক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে মস্কোর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায়, পুতিনের কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। একই সময়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তার নীতি বাস্তবে রাশিয়ার জন্য লাভজনক হবে, এতে কোনো সংশয় নেই। আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। ফলে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল সামরিক লড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। আর এই কারণেই ইউরোপীয় নীতি নির্ধারকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেও কেউ ভাবতেও পারেনি বিশ্ব রাজনীতিতে এমন ওলোটপালোট পরিবর্তনের ঝড় বয়ে যাবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইতিহাসে দাম্ভিকতার কোনো স্থান নেই। অহংকার, দাম্ভিকতা আর অন্যকে অন্যায়ভাবে দাবিয়ে রাখার প্রবণতার পরিণতি ভয়াবহ। এমন কিছুই বিশ্ববাসী আবারও দেখতে চলেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভূ-রাজনীতি এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তবে একটু পেছনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারব যে এর শেকড় বহু বছর আগে রাশিয়া ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রোথিত। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে ন্যাটো পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোকে অন্যায়ভাবে নিজেদের বলয়ে নিতে থাকে এবং রাশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ইউরোপপন্থী বিপ্লবের (যা ইউরোময়দান বিপ্লব) পর, রাশিয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয়। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবৈধ ঘোষণা করলেও রাশিয়া এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক দাবির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে। ক্রিমিয়ার দখলদারিত্বের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করলেও পুতিন প্রশাসন পশ্চিমা চাপের মুখে নতিস্বীকার করেনি, বরং মস্কো নিজের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে শুরু করে এবং চীন, ভারতসহ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। ফলে রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মধ্যে এক নতুন ধরনের শীতল যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট শুরু হয়, যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে থাকে, যার ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়। একদিকে রাশিয়া নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে সামনে রেখে মস্কোকে দুর্বল করতে চাইছে। কিন্তু কোনোভাবেই রাশিয়াকে দুর্বল করতে পারেনি, বরং পুতিনের সরকার কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
গত তিন বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলো একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়াকে পরাস্ত করার জন্য। নানাভাবে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করে সংকটকে প্রলম্বিত করেছে। মৃত্যুবরণ করেছে অসংখ্য সৈন্য এবং সাধারণ মানুষ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি, দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপীয় অর্থনীতি। মুদ্রাস্ফীতির কারণে জনজীবন বিপন্ন হচ্ছে, সমাজে নেমে এসেছে সার্বিক অস্থিরতা। এত কিছুর পরেও ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের টনক নড়েনি। মস্তিষ্কে কোনো শুভবুদ্ধির উদয় হয়নি সংকটকে কিভাবে থামানো যায়। শেষ পর্যন্ত যখন ট্রাম্প প্রশাসন শান্তির বার্তা শোনাল, পুতিনের সাথে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলল, তখনই মাথা গরম হয়ে যায় ইউরোপীয়দের। গত আশি বছরের ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে যেন হঠাৎ করেই দেখা দেয় কালো মেঘের ঘনঘটা। ট্রাম্প প্রশাসন ঐতিহ্যগতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন হঠাৎ করেই কমিয়ে দেয়। একের পর এক নতুন নতুন চমকপ্রদ ডিক্রি নিয়ে আসতে শুরু করে ট্রাম্প। পুতিনের অবস্থানকে মেনে নিয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপকে দোষারোপ করতে থাকে। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে একনায়ক এবং যুদ্ধ শুরু করার খলনায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিন বছরেও শান্তি প্রস্তাব না আনতে পারার ব্যর্থতায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে তুলোধুনা করেন। সত্যবাদী ট্রাম্প যেন মহীরুহে পরিণত হয়েছেন বিশ্ব রাজনীতিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন থেকেই তিনি "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতিতে জোর দেন। তার এই নীতি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে। ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা সংক্রান্ত নীতি, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কৌশল এবং ইউরোপের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর সিদ্ধান্ত—এসব কিছুই দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিমা বিশ্বকে দুর্বল করে তুলবে এবং রাশিয়াকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় থেকেই ট্রাম্প ন্যাটোর ওপর ইউরোপের নির্ভরশীলতা কমাতে চেয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিতে বরাবরের মতো এবারও সোচ্চার হয়েছেন। তবে এবার ট্রাম্প ইউরোপীয়দের জন্য কোনো পথ আর খোলা রাখেননি। ক্ষমতায় এসেই মার্কিন অস্ত্র সহায়তা কমিয়ে দিয়েছেন এবং নতুন কোনো অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। গত তিন বছরে দেওয়া সাহায্য-সহযোগিতার বিনিময়ে উল্টো ইউক্রেনকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিরল খনিজ পদার্থ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। হঠাৎ করে ইউক্রেনের জন্য প্রত্যক্ষ সমর্থন হ্রাস করার ফলে ইউরোপ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। এখন বাস্তবতা দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি হওয়া ছাড়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আর কোনো পথ খোলা নেই। ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের কৌশলগত কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সারা ইউরোপ। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ইউরোপের এখন উর্ধ্বশ্বাস অবস্থা—যেন আমও গেল, ছালাও গেল। সব দিক থেকে ইউরোপ যেন বিপর্যস্ত হতে চলেছে। অর্থনৈতিকভাবে যেমন বেসামাল, অন্যদিকে জ্বালানি ও সামরিক নিরাপত্তার দিকটিও একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করলেও সহজে বিকল্প খুঁজে পায়নি। জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে শিল্প খাত বিপর্যস্ত হয়েছে। বেড়েছে উৎপাদন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অনেক পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, রাশিয়া তার জ্বালানি সম্পদ এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে, বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল, যা পশ্চিমাদের প্রত্যাশার বিপরীত।
পশ্চিমারা মনে করেছিল, নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—ইউরোপই বরং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির ঘাটতি এবং রাজনৈতিক বিভক্তির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়াও, পশ্চিমা দেশগুলো অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তারপর নতুন করে শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিভক্তি। অথচ বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, সমর ও দেশনায়ক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এই যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সব সময় দেখেছেন। তিনি জানতেন যে সময়ের সাথে সাথে পশ্চিমা বিশ্বের ধৈর্য কমে আসবে এবং তার দেশ আরও শক্তিশালী হবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে, এবং বিশ্বব্যাপী শক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস (BRICS) জোটের মাধ্যমে পুতিন পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। চীন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নতুন নতুন সদস্য রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্রিকস জোট শক্তিশালী হচ্ছে দিন দিন, যা পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ নিয়ে আসেন। পুতিনের পক্ষপাতিত্ব আর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন। তার পরিকল্পনা সহজ—ইউক্রেনকে রাশিয়ার কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে, এবং পশ্চিমা অর্থায়নের ইতি ঘটবে। বাস্তবে, এটি পুতিনের জন্য এক বিশাল বিজয়, কারণ ইউক্রেন পশ্চিমাদের আর্থিক ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি প্রমাণ করছে যে পাশ্চাত্যের ঔদ্ধত্য এবং দ্বিমুখী নীতি তাদের পতনের কারণ হয়েছে। এ যেন ভারতীয় দর্শনের প্রতিফলন— "যেমন কর্ম, তেমন ফল।"
পুতিন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে ধৈর্য ধরে থাকার ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন কমে আসবে। ট্রাম্পের নতুন নীতি কার্যত ইউক্রেনকে এক প্রকার আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন রাশিয়ার বেশ কিছু প্রধান দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে। এই সমঝোতার মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করবেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হবে রাশিয়ার এক বড় কূটনৈতিক বিজয়। বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান গতিধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শক্তির ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। পাশ্চাত্যের একচেটিয়া আধিপত্য ক্ষয়িষ্ণু, আর উদীয়মান শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান সুসংহত করছে। পুতিনের কৌশল, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন, এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি উপাদান একত্রে নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা গড়ে তুলছে। যদি ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাধানের পথে এগোন, তবে সেটি শুধুমাত্র রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিক বিজয় হবে না, বরং এটি এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার সূচনা করবে, যেখানে পশ্চিমা আধিপত্যকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে শক্তিগুলোর পুনর্বিন্যাস কেবল শুরু হয়েছে, এবং আগামী দিনে বিশ্ব আরও এক অনিশ্চিত কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।