জ্ঞান বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা


ভারতীয় দর্শনে শিক্ষক বা 'গুরু'র ভূমিকা অত্যন্ত গভীর এবং তাৎপর্যময়। প্রাচীন ঐতিহ্য ও দার্শনিক ব্যবস্থায় শিক্ষকের ধারণাটি শুধু শিক্ষাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, বরং একজন শিক্ষকের ভূমিকা জ্ঞান পিপাসু এবং জ্ঞানের উত্সের মধ্যে একটি পবিত্র সম্পর্ক তৈরি করা। ভারতীয় দর্শনে আমরা শিক্ষকের বহুমাত্রিক কর্মকান্ডের সাথে নিবিড় সংপৃক্ততা দেখতে পাই। জ্ঞান, নির্দেশিকা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের মূল উৎস হিসেবেই একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে এক অনিন্দ্য সুন্দর ও সন্মানজনক সম্পর্ক তৈরী করতেন। অতীতে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে গুরু-শিষ্য পরম্পরা ছিলো একটি চিরন্তন শ্রদ্ধেয় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যটির শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় উপনিষদের মতো প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলিতে, যেখানে গুরুকে আলোকিতকারী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে যিনি জ্ঞান পিপাসু ব্যাক্তিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যান। এই প্রসঙ্গে গুরু নিছক একজন শিক্ষক নন বরং একজন আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকও বটে যিনি সমবেদনা, সততা এবং নিঃস্বার্থভাবে জ্ঞান প্রদান করতেন। জ্ঞানের ভান্ডার এবং আলোকবর্তিকা হিসাবে শিক্ষককে সমাজে উঁচু স্থানে স্থান দেওয়া হতো। কঠোর অধ্যয়ন, মনন এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যিনি এই পরম জ্ঞানকে অর্জন করতেন। বেদান্ত, প্রাচীন ভারতীয় এবং বৌদ্ধধর্মের মতো বৈচিত্র্যময় দার্শনিক ব্যবস্থায় গুরুর অস্তিত্ব ও গুনাবলী নিয়ে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। শিক্ষকের শিক্ষাদান ও নির্দেশনার মাধ্যমে, শিষ্য আত্ম-আবিষ্কারের একটি রূপান্তরমূলক যাত্রা শুরু করে, অস্তিত্বের রহস্য উন্মোচন করে এবং সর্বোপরি আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভ করে। নৈতিক আচরণ এবং নিঃশর্ত ভালবাসার মাধ্যমে, শিক্ষক শিষ্যের হৃদয়ে নম্রতা, করুণা এবং ভক্তির মতো গুণাবলী স্থাপন করেন। গুরু-শিষ্য সম্পর্কের এই দিকটি সময় এবং স্থানের সীমানা অতিক্রম করে, সংযোগ এবং শ্রদ্ধার গভীর অনুভূতিকে উত্সাহিত করে যা শিক্ষকের শারীরিক উপস্থিতির বাইরেও প্রসারিত হয়।

 

ভারতীয় দর্শনে, আধ্যাত্মিক বিবর্তনের জন্য গুরুর কৃপা অপরিহার্য বলে মনে করা হতো। এটা বিশ্বাস করা হতো যে গুরুর আশীর্বাদের মাধ্যমে, শিষ্যকে ঐশ্বরিক কৃপা দেওয়া হয়, যা ব্যাক্তির অভ্যন্তরীণ মানষিক বিকাশ এবং উপলব্ধির জন্য অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। এই বিশেষ উপলব্ধি নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় না বরং নম্রতা, আত্মসমর্পণ এবং গুরুর নির্দেশনায় অটল বিশ্বাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের ভাষায়, "গুরুর ব্রহ্মা, গুরুর বিষ্ণু, গুরুর দেবো মহেশ্বরা," অর্থাৎ "গুরু হলেন সৃষ্টিকর্তা, গুরুই রক্ষাকর্তা এবং গুরুই ধ্বংসকারী।" ভারতীয় দর্শনের মতে পরম গুরু নিজের মধ্যেই থাকেন। বাহ্যিক রূপ এবং প্রকাশের বাইরে, প্রকৃত গুরু হলেন জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি এবং ঐশ্বরিক চেতনার অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বর। ধ্যান, আত্ম-অনুসন্ধান, এবং আত্মদর্শনের মতো অনুশীলনের মাধ্যমে, শিষ্য অভ্যন্তরীণ গুরুর উপস্থিতি উপলব্ধি করে। গুরু-শিষ্য পরম্পরা পবিত্র ঐতিহ্যের মধ্যে নিহিত। গুরু জ্ঞানের পথকে আলোকিত করেন, আত্মাকে লালন-পালন করেন এবং আধ্যাত্মিক রূপান্তরের পথে শিষ্যকে নির্দেশনা প্রদান করেন। ব্যাক্তির মধ্যে যাহা প্রচ্ছন্ন আছে তাকে প্রকাশ করাই  একজন শিক্ষকের গুরু দায়িত্ব। বিদ্যার্থীর ভেতরের সকল বৃত্তিকে প্রস্ফুটিত করিয়া তাহার মধ্যে মনুষ্যত্ব ও সর্বঙ্গীণ পূর্নতা জাগ্রত করাই প্রাচীন ভারতে শিক্ষা পদ্বতির আদর্শ ছিলো।

 

বেদান্ত দর্শন, ভারতীয় চিন্তাধারার ছয়টি শাস্ত্রীয় বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি, যা অস্তিত্ব, চেতনা এবং চূড়ান্ত বাস্তবতার প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। বেদান্তের কেন্দ্রবিন্দু হল শিক্ষকের ধারণা, যিনি গুরু নামে পরিচিত। যিনি অনুসন্ধানকারীদের আত্ম-উপলব্ধি এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  জ্ঞানের মূর্ত প্রতীক হিসাবে গুরুকে চিহ্নিত করা হয়েছে বেদান্ত দর্শনে। গুরুকে জ্ঞান, আলোকিতকরণ এবং ঐশ্বরিক অনুগ্রহের মূর্ত প্রতীক হিসাবে সম্মান করা হতো। গুরু নিছক একজন শিক্ষক নন বরং চিরন্তন সত্যের (ব্রাহ্মণের) প্রকাশ। গুরুর ভূমিকা হল জ্ঞান প্রদান করা যা শিষ্যকে অজ্ঞানতা থেকে আত্ম-উপলব্ধির (আত্মজ্ঞান) দিকে নিয়ে যায়, নিজের সত্তার গভীরে লুকিয়ে থাকা চিরন্তন সত্যগুলিকে উন্মোচন করে। গুরুর শিক্ষা নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তৃতার উপর ভিত্তি করে নয় বরং চূড়ান্ত বাস্তবতার প্রত্যক্ষ উপলব্ধির মধ্যে নিহিত। স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা দর্শনেও মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্নতার কথাই বলা হয়েছে। খুব সহজভাবে তিঁনি `শিক্ষার` একটি সহজ সংজ্ঞা দিয়েছেন: “Education is the manifestation of the perfection already in man.” অর্থাৎ যাহা মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্নতাকে প্রকাশ করে তাহাই শিক্ষা। শিক্ষকের মূল কাজ হলো মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জ্ঞানকে প্রকাশ করা। জ্ঞান মানুষের মধ্যেই থাকে। তাই জ্ঞান কোন বাইরের জিনিস নয়। জোড় করে কোন শিক্ষার্থীকে সে জ্ঞানের ঔষধ খাওয়ানো সম্ভব নয়। একজন শিক্ষকের উচিৎ সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে তার ভেতরের জ্ঞানকে আবিস্কার করার মাধ্যমে শিক্ষার পথ দেখানো। শিক্ষার্থীর শারিরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক-অন্তর্নিহিত সকল গুনাবলীকে সুসঙ্গতভাবে বিকাশলাভ করানোই একজন শিক্ষকের সার্বজনীন আদর্শ।

 

প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের মতো প্রাশ্চাত্যের দার্শনিকরাও শিক্ষা ও শিক্ষকের আদর্শ নিয়ে বেশ আলোকপাত করেছেন। মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই শিক্ষাদানের শিল্প মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শিক্ষার পদ্ধতি, এর সারমর্ম এবং তাৎপর্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছেন প্রাচীন দার্শনিকরা। আমরা যদি পশ্চিমা দার্শনিকদের শিক্ষক ও শিক্ষা সম্পর্কে ধারনাগুলি নিয়ে একটু আলোকপাত করি তাহলেই বুঝতে পারবো প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের দার্শনিক চিন্তা ধারায় শিক্ষকের আদর্শ এক এবং অখন্ড। পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসে, সক্রেটিস তার দ্বান্দ্বিক অনুসন্ধান পদ্ধতির জন্য একজন আলোকিত ব্যক্তিত্ব হিসাবে জগদ্বিখ্যাত, সন্মানিত ও সর্বজন নন্দিত। সরাসরি জ্ঞান প্রদানের পরিবর্তে, সক্রেটিস নিজেকে "জ্ঞানের ধাত্রী" হিসাবে দেখেছিলেন। জননী যেমন ধাত্রীরুপে প্রসূতির সন্তান প্রসবে সাহায্য করেন, ঠিক তেমনি তিনি পুরুষ ধাত্রীরুপে জ্ঞান শিশুর জন্মে সাহায্য করছেন। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই একটি জ্ঞান শিশু লুকিয়ে থাকে। একজন শিক্ষক তার সঠিক নির্দেশনা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে সেই জ্ঞান শিশুটিকে ভেতর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে আসতে সাহায্য করেন। সক্রেটিসের জন্য, শিক্ষা ছিল খালি পাত্র ভরাট করা নয়, বরং শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুসন্ধানের শিখা জ্বালিয়ে দেওয়া, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করা এবং প্রজ্ঞার সাধনাকে প্রজ্বলিত করা।

 

সক্রেটিসের শিষ্য বিশ্বখ্যাত গ্রীক দার্শনিক প্লেটো তার অবিস্বরনীয় মূল গ্রন্থ `দি রিপাবলিক`-এ শিক্ষার আদর্শ রূপটি ব্যাখ্যা করেছিলেন। প্লেটোর মতে-“The aim of education is to develop in the body and in the soul all the beauty and all the perfection to which they are capable”. শরীর ও আত্মার যতটা সৌন্দর্য ও পূর্নতা সম্পাদন সম্ভব হইতে পারে ততটা উৎকর্ষ বিধান করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য। গুহার রূপকথায়, প্লেটো শিক্ষার রূপান্তরকারী শক্তিকে চিত্রিত করেছেন, অজ্ঞতা থেকে আলোকিত হওয়ার যাত্রাকে একটি অন্ধকার গুহার গভীর থেকে সূর্যালোক এবং সত্যের রাজ্যে আরোহণের সাথে তুলনা করেছেন। প্লেটোর শিক্ষার ধারণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নৈতিক চরিত্রের বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ, ও সত্য, সৌন্দর্য এবং কল্যাণের অতীন্দ্রিয় আদর্শের অনুসরণ। সেই গুনাবলীর সমন্বয় সাধন করে একজন শিষ্যকে মানবিক করাই ছিলো শিক্ষকের গুরু দায়িত্ব। প্রাচীন গ্রীক দর্শনের আরেক বিশাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন অ্যারিস্টটল। শিক্ষার প্রকৃতি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেছিলেন তার মূল গ্রন্থ "নিকোমাচিয়ান এথিক্স"-এ। অ্যারিস্টটল শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে ইউডাইমোনিয়া বা মানুষের বিকাশের ধারণাটিকে সমর্থন করেছিলেন। অ্যারিস্টটলের মতে, শিক্ষার উচিত উৎকর্ষ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী গড়ে তোলা। আর সেই জন্য শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সম্ভাবনার উপলব্ধির দিকে অনুপ্রাণিত করা, নৈতিক গুণ, বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং ব্যবহারিক প্রজ্ঞার বিকাশকে উত্সাহিত করাই শিক্ষকের মূখ্য ভূমিকা। স্বাত্বিক জ্ঞান অর্জন ও আত্মোপলদ্ধির মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃত সুখ অর্জন এবং সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে। প্রাচীন চীনে, দার্শনিক কনফুসিয়াসও শিষ্যের চরিত্র গঠন ও স্বাবলম্বী হওয়ার শিক্ষায় শিক্ষকের গুরু দায়িত্বর উপর জোড় দিয়েছিলেন। কনফুসিয়াসের জন্য, শিক্ষকের ভূমিকা ছিল শুধুমাত্র জ্ঞান প্রদান করা নয় বরং উদারতা, ন্যায়পরায়ণতা, প্রাপ্যতা, প্রজ্ঞা এবং আন্তরিকতার গুণাবলীর উদাহরণ দেওয়া। এই গুণাবলীর রোপনের মাধ্যমে, কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন যে ব্যক্তিরা আত্ম-উপলব্ধি অর্জন করবে এবং সমাজের সম্প্রীতি ও বিকাশে অবদান রাখবে। কনফুসিয়ান ঐতিহ্যে, শিক্ষাদান ছিল একটি সামগ্রিক প্রচেষ্টা যার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বৃদ্ধির লালন, তাদের স্ব-সংস্কৃতির পথে পরিচালিত করা এবং পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে নিবিড় ছন্দোময় প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলা।

 

কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সবকিছু পাল্টাচ্ছে। পাল্টাচ্ছে আমাদের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবারনীতি, গার্হস্থ্য নীতি এবং আমাদের সম্পর্কের সামাজিক দর্শন। বেদান্ত দর্শন থেকে আমরা প্রায় পাঁচ হাজার বছর দূরে চলে এসেছি। আড়াই হাজারের বেশী বছর আগে চলে গেছেন সক্রেটিস, প্লেটো আর এরিস্টোটল। গত দুই হাজার বছর ধরে রোমের দার্শনিক সিসেরো, কুইন্টিলিয়াম থেকে শুরু করে, ফরাসী দার্শনিক রুশো, জার্মান দার্শনিক হার্বাট, ইংরেজ দার্শনিক লক এবং ভারতবর্ষের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মনীষিগন শিক্ষাতত্ব ও শিক্ষকের দ্বায়িত্ব সম্বন্ধে বহ মূল্যবান মতবাদ প্রচার করেছেন।  কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়ন আর তথ্যপ্রযুক্তির উন্মাদনার যুগে পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে খুব দ্রুত। পরিবর্তন এসেছে আমাদের চাহিদায়, রুচিতে, সংস্কৃতিতে, ভাষায়, মনোজগতে। সব কিছুতেই চলছে পুঁজিবাদ আর ভোগবাদী দর্শনের উন্মাদনা। বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তায় আর চেতনায় চলছে ভোগবাদী দুর্বৃত্তায়ন। ক্যান্সারের মতো চিবিয়ে খাচ্ছে মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জ্ঞানের শিশুটাকে। আধুনিক যুগের শিক্ষকরা আজ অতি আধুনিক। এখনকার শিক্ষকদের শিক্ষা প্রদানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাবিদ্যা নয় বরং আধুনিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি করা উদ্ভাবনী পদ্ধতির মিশ্রণ যা পুঁজিবাদের দূষনে দুষ্ট। শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক সাফল্যতাকে প্রাধান্য দেওয়াটাকেই আধুনিক যুগের অধিকাংশ শিক্ষকের গুরু দ্বায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন শিক্ষককে আর জ্ঞানতাপস, স্থিতপ্রজ্ঞ, বিনয়ী ও পান্ডিত্যের অধিকারী না হলেও চলবে। একাডেমিক সার্টিফিকেট আর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাবহার করে শিক্ষার্থীদের উপর তোতাপাখির মতো শব্দ বর্ষন করতে পারলেই যথেষ্ট। আর এই কারনেই আমরা দেখছি প্রজন্ম ধরে বিশ্বব্যাপী চলছে জ্ঞানের দূর্ভিক্ষ। অতীতে যখন মেধাবী এবং জ্ঞান পিপাসুরা আসতো শিক্ষকতায় আজ পুঁজিবাদের দুর্বৃত্তায়নের কালে অজ্ঞান আর ভোগবাদী দুষ্ট জ্ঞান দাতা নয় বরং জ্ঞান হরনকারিরা আসছে শিক্ষকতার পেশায়। শিক্ষার আদর্শ সকল দেশেই জাতিগত চরিত্রের অনুরুপ হওয়া আবশ্যক। আর একজন সত্যিকারের শিক্ষক হবে ভোগবাদী লালসা বিহীন স্থিতপ্রজ্ঞ, পান্ডিত্যপূর্ন এবং নীতিবান যিনি হবেন সমাজ গড়ার সত্যিকারের কারিগর।

 

Leave your review